রাজেন্দ্রপুরে বাসে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, আড়াই বছর পর চালক গ্রেপ্তার
গাজীপুরের বনাঞ্চল রক্ষায় পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ গঠনের দাবি: ৫ দফা পেশ
গাজীপুর প্রেসক্লাব নির্বাচন: মনোনয়ন ৮ অক্টোবর, ভোট ২৯ অক্টোবর
“ইসলাম ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়” — গাজীপুরে খায়রুল হাসান
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেটিভ এআই নিয়ে সেমিনার
চাকরি স্থায়ীকরণসহ ৫ দফা দাবিতে প্রেসক্লাবে মাস্টাররোল কর্মচারীদের সমাবেশ
‘আগামীর নেতৃত্ব দেবে মেধাবীরাই’—শিক্ষার্থীদের মিয়া গোলাম পরওয়ার
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণ ‘দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক’: রাষ্ট্রপতি
কোনাবাড়ীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের বাসের হেলপার সুজন মিয়া নিহতের ঘটনায় আড়াই বছর পর পলাতক কাভার্ড ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে মো. রাশেদ নামে ওই চালক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা জেলার সাভার থানার কলমা এলাকায় উইন্টার গার্মেন্টসের সামনে অভিযান চালিয়ে রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৫ অক্টোবর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত সুজন মিয়া (২৫) অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের হেলপার ছিলেন। ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোরে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে বাসটি ছেড়ে যায়। সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় হোটেল এক্সের পাশের ইউটার্নে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান বাসটির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়।
এ সময় বাসের বাম পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন গুরুতর আহত হন। যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় বাস ও কাভার্ড ভ্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কে উল্টে পড়ে। এ সময় কাভার্ড ভ্যানচালক পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় সুজনের স্ত্রী মোসা. সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় মামলা করেন। থানা-পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার পিবিআই গাজীপুর জেলা গ্রহণ করে। তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুয়েল হোসেন।
পিবিআইয়ের বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পলাতক চালক রাশেদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার পিপিএম-সেবা জানান, গ্রেপ্তার চালককে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার অন্যান্য দিক, উদ্ধার হওয়া আলামত ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নাগরিক, যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকদের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। সড়কে এ ধরনের মৃত্যু কারও কাম্য নয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :