প্রকাশের সময় :
অপরাধ তদন্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও কার্যকর করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ফরেনসিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রমাণ, ডিএনএ বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তি তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে এ প্রশিক্ষণে আলোচনা করা হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে পিবিআইয়ের ৩০ কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি (আইএফএসসিএস)-এর উদ্যোগে ‘অ্যাপ্লিকেশন অব ফরেনসিক সায়েন্স ইন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস: ফ্রম ক্রাইম সিন টু দ্য কোর্টরুম’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, একটি মামলার তদন্তে ছোট একটি আলামতও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরীক্ষাগারে পাঠানো, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং আদালতে উপস্থাপনের প্রতিটি ধাপে সতর্কতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
তিনি বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধও বাড়ছে। ফলে প্রচলিত তদন্ত পদ্ধতির পাশাপাশি ফরেনসিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিকে তদন্তের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে।
ডিজিটাল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে ডিজিটাল আলামতের গুরুত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করলেই হবে না; এর সীমাবদ্ধতা, প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রাপ্ত তথ্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয়েও তদন্ত কর্মকর্তাদের দক্ষ হতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের প্রয়োগমুখী প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও বিশেষায়িত দক্ষতাকে বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রশিক্ষণে অপরাধস্থল ব্যবস্থাপনা, শারীরিক ও জৈবিক আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং, চেইন অব কাস্টডি, পরীক্ষাগারে আলামত পাঠানো ও ট্র্যাকিং, ফরেনসিক ডিএনএ, ফরেনসিক প্যাথলজি ও টক্সিকোলজি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ‘ফরেনসিক ফাইন্ডিং থেকে জুডিশিয়াল ফাইন্ডিং’, ‘অপরাধ তদন্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার’, ‘ফরেনসিক রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য’, ‘ফরেনসিক প্রমাণের সীমাবদ্ধতা’ এবং ‘পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও মানবাধিকার’সহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৪টি সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পিবিআই, সিআইডি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের স্কুল অব ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিসের ফরেনসিক স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার ড. হেলেন আরওয়াকার অনলাইনে ‘Significance and Impact of Forensic Evidence’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএফএসসিএস-এর প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ বিন কাশেম। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী পিবিআই কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হবে।