প্রকাশের সময় :
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সময়ে রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাও কমছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে না।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।’ তবে রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাঁচ দফা প্রস্তাব
- ১. প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
- ২. সহিংসতা বন্ধ ও অধিকার নিশ্চিত: রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
- ৩. মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি: রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
- ৪. ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি: গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্ত ব্যবস্থাকে অব্যাহত সহযোগিতা করতে হবে।
- ৫. আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন: মাদকপাচার, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশ তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
###
জাগোনিউজ থেকে সংকলিত